মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে করোনা টেস্টের ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করার দায়ে নিষিদ্ধ হলেন জার্মান ফুটবল কোচ মার্কোস আনফাংক। তাকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)। বুধবার ডিএফবি এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আনফাংকে বিশ হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।
আনফাং প্রাথমিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার জাল সার্টিফিকেটের ব্যবহার নিয়ে জার্মান কর্তৃপক্ষের তদন্ত শুরু হওয়ার পর গত নভেম্বরে দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব ব্রেমেনের চাকরি ছেড়ে দেন।
আনফাংয়ের সাবেক সহকারী ফ্লোরিয়ার ইয়োঙ্গাকে দেওয়া হয়েছে ১০ মাসের নিষেধাজ্ঞা এবং জরিমানা করা হয়েছে ৩ হাজার ইউরো।
ডিএফবি জানায়, আনফাং ও ইয়োঙ্গা ২০২১ সালের গ্রীষ্মে জাল টিকা কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন; যা তাদের নিয়মিত কোভিড পরীক্ষা থেকে পরিত্রাণ দিয়েছিল।
নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় এই দুজনের নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে আংশিকভাবে কমিয়ে ২০২২-২৩ মৌসুমে তাদের কোচিং পুনরায় শুরু করার অনুমতি দিয়েছে জার্মান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের কলমাইদ গ্রামে ধলেশ্বরী নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে জনজীবনে নেমে আসতে পারে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার রমজান নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার মূল হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধলেশ্বরী নদীর আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন বলে জানা গেছে। অতীতে আওয়ামীলিগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখনো প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় একইভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র নেই। তবুও রাত-দিন চলে বালু উত্তোলনের কাজ। ফলে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছরই নতুন নতুন জমি ভাঙনের কবলে পড়ায় ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একাধিক কৃষক জানান, “আমাদের আবাদি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। ড্রেজার দিয়ে নদীর পার ঘেষে বালু উত্তলোন করার কারণে নদী ভাঙন তীব্র হচ্ছে। কেও প্রতিবাদ করলে উল্টো নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।”
স্থানীয়দের জানান, প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন পরিবেশ ও কৃষি উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো এলাকার ভূ-প্রকৃতি ও মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপ ভৌমিক বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।”
এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ সেওতা এলাকায় এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে রহস্য ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিবার দাবি করছে এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা; অন্যদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ৯৯৯ কল দেয় মনিরুজ্জামান। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ মনিরুজ্জামানের ভাড়া বাসার পাঁচতলা থেকে বৃষ্টি আক্তার (১৯) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। বৃষ্টি সদর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে। তিনি মানিকগঞ্জ শহরের তৃপ্তি প্লাজায় একটি দোকানে মাসিক বেতনে চাকরি করতেন।
এ ঘটনায় বৃষ্টির পরিবার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। নিহতের মা শিল্পী বেগম দাবি করেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।”
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর তারা থানায় মামলা করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাদের অভিযোগ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এমনকি আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে অপমৃত্যুর কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও দাবি তাদের। পরে বাধ্য হয়ে গত ১৫ এপ্রিল মানিকগঞ্জ সি আর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন নিহতের মা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাসার মালিক মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি আক্তারকে বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিতেন। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার দিন তাকে একা পেয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
নিহতের ভাই আকাশ বলেন, আপনারা গরীব মানুষ, আপনারা মামলা করবেন কেন? আপনারা মামলা করলে আপনার মা-ও হতে পারে এই মামলার আসামি।
এ বিষয়ে মনিরুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি ৯৯৯ কল দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তারা যদি আমার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করে তাহলে আমার কি করার আছে? যা হবার তা মামলাই হবে। তারা মামলা করলে তো আমি আর ফেরাতে পারব না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার এসআই আব্দুল্লাহ হোসাইন বলেন, “ওই মহিলারা অশিক্ষিত। তারা যা বলছে, তা সঠিক নয়।” সেখানে আরো একাধিক সাংবাদিকও উপস্থিত ছিল।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনিয়ম-দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার যেখানে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে, সেখানে এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত অফিস সময় শেষ হওয়ার পরও অফিসটি খোলা রয়েছে এবং সেখানে সরকারি কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকলেও বহিরাগত একটি দালাল চক্র প্রকাশ্যেই অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায়।
অভিযোগ রয়েছে, বিকেল ৪টার পর উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ নাছির উদ্দিন অফিস ত্যাগ করলেও তার অনুপস্থিতিতে দালালদের মাধ্যমে অফিস চালু রাখা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও সরকারি শৃঙ্খলার পরিপন্থী। প্রশ্ন উঠেছে—একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসে না থাকলে কিভাবে বহিরাগতরা সরকারি অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করে?
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ নাছির উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “সরকারি কাজ চলমান থাকায় অফিস খোলা রয়েছে।” তবে তার এই বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং দায় এড়ানোর কৌশল বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র এই অফিসকে ঘিরে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সেবা প্রদান করছে, যা সরাসরি দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই অনিয়ম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।