চট্টগ্রাম উত্তর, ২২ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার ফটিকছড়ির একটি চা বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার বেলা ১২টায় উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের সুজানগর চা বাগান থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল চৌধুরী বলেন, কয়েকদিন যাবৎ সুজানগর ও রাঙ্গাপানি চা বাগান এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে আমরা তৎপর হই। এই তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে কতিপয় অপরাধী অস্ত্রগুলো ফেলে যেতে বাধ্য হয়েছে। পরে ভূজপুর থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাসসকে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে। জড়িত অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১৩ই মে ২০২৬ ইংরেজি রোজ বুধবার। বান্দরবানের লামা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মধুঝিরি এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের তিনটি রুম বিশিষ্ট টিনশেড ঘর ও পাকের ঘরসহ সম্পূর্ণ বসতবাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জামাল উদ্দিনের দাবি অনুযায়ী, আগুনে তার প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আজ ১৩ মে বুধবার বিকেলে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার সাথে সাথে স্থানীয় লোকজন লামা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় গাড়ি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুনের তীব্রতায় তিনটি রুম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনের কারণ, লামা ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, বসতবাড়িটি পুড়ে গেলেও এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে জামাল উদ্দিনের পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ঢাকার সাভার উপজেলার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা অজুহাতে কাজ বিলম্ব করা হলেও দালালদের মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ট্যাক্স ও ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অতিরিক্ত টাকা না দিলে আবেদন দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়।
এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতা, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্র ও অন্যান্য নাগরিক সেবা পেতেও বাড়তি টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সেবাপ্রার্থীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে রাস্তা সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজ সম্পন্ন না করেই কাগজে-কলমে প্রকল্প শেষ দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছু প্রকল্প অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা কাজের মান নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো কাজ সহজে সম্পন্ন হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “পরিষদের সকল কার্যক্রম সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অনিয়মের অভিযোগ করলে লিখিতভাবে জানালে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা