সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

1

সশস্ত্র পাহারায় বালু উত্তোলন: আতঙ্কে এলাকাবাসী, ঝুঁকিতে জাতীয় অবকাঠামো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১০:৩৬ এম ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সশস্ত্র পাহারায় বালু উত্তোলন: আতঙ্কে এলাকাবাসী, ঝুঁকিতে জাতীয় অবকাঠামো

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়ারচর এলাকায় যমুনা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অবৈধ বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট এখন সরাসরি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও বিদ্যমান আইন অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাওয়ারের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় ভারী ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার ফলে নদীর তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে গভীর হয়ে পড়েছে। এতে স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীব্র ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে, যা টাওয়ারগুলোর ভিত্তিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় টাওয়ার নদীগর্ভে বিলীন হলে তা বৃহত্তর অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—আঃ রশিদ (পিতা: ফকির মাদবর), ইউনুস (পিতা: আঃ লতিফ), ষন্তস (পিতা: আঃ জলিল মোল্লা), আঃ মোতালেব (শহীদ বেপারি), আমিরুল (পিতা: আঃ রশিদ), মনোয়ার (পিতা: আঃ লতিফ), মঞ্জু মেম্বার (পিতা: আমজাদ), রঞ্জু (পিতা: আমজাদ), আলম (পিতা: আঃ লতিফ), জাহাঙ্গীর (পিতা: আঃ মজিদ), আঃ রাজ্জাক (পিতা: আফজাল), শাহ আলম (পিতা: নজর আলী), আক্তার হোসেন (পিতা: জুলহাস), জুলহাস (পিতা: আরদোস আলী), বাবু (পিতা: আঃ মজিদ), সিরাজুল (পিতা: আঃ ফকির) এবং আঃ করিম (পিতা: লাল চান)। এরা সবাই শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চরের বাসিন্দা।

এলাকাবাসী জানান , এই চক্রের সহায়তায় ১০–১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ নিয়মিত এলাকায় অবস্থান করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থলে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে কার্যত ভেঙে পড়েছে স্থানীয়দের প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নামধারী কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণকে প্রভাবিত করছে বলে তাদের ধারণা। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি, অভিযোগটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে আলোচিত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—পর পর বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি; বরং একইভাবে ড্রেজিং চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে করে আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

আইন অনুযায়ী, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৬২ ধারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবসতির নিকটবর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করেছে। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, জাতীয় গ্রিড টাওয়ার ও বসতভিটা রক্ষায় তারা একাধিকবার মানববন্ধনসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে তারা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ড্রেজার জব্দ, দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু এবং নদীতীর সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ বিস্তীর্ণ জনপদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

সব মিলিয়ে, আলোকদিয়ারচরের এই অবৈধ বালু উত্তোলন এখন শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়—এটি জাতীয় অবকাঠামো সুরক্ষা ও আইনের শাসনের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

1

প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহ যাচ্ছেন কাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১:৩১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহ যাচ্ছেন কাল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার ময়মনসিংহ জেলা সফরে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, এ সফরে তিনি খাল পুনঃখনন, নজরুল জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠান উদ্বোধন এবং সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।

প্রেস উইং জানায়, আগামীকাল শনিবার সকাল ৯টায় সড়কপথে ঢাকার ত্রিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর দুপুর ১২টায় ত্রিশালের বালর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে খাল খননের উদ্বোধন করবেন তিনি।

দুপুর ২টায় ত্রিশালের নজরুল ডাকবাংলোতে বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিকেল ৫টায় ত্রিশালের নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগদান করবেন তিনি। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

1

ফটিকছড়ির চা বাগান থেকে ৫টি একনলা বন্দুক উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১:২৮ পিএম
ফটিকছড়ির চা বাগান থেকে ৫টি একনলা বন্দুক উদ্ধার

চট্টগ্রাম উত্তর, ২২ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার ফটিকছড়ির একটি চা বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাঁচটি দেশীয়  একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার বেলা ১২টায় উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের সুজানগর চা বাগান থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।

হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল চৌধুরী বলেন, কয়েকদিন যাবৎ সুজানগর ও রাঙ্গাপানি চা বাগান এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে আমরা তৎপর হই। এই তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে কতিপয় অপরাধী অস্ত্রগুলো ফেলে যেতে বাধ্য হয়েছে। পরে ভূজপুর থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাসসকে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে। জড়িত অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চলছে।  এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

1

লামায় অগ্নিকাণ্ডে মধুঝিরিতে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই ১২ লক্ষ টাকার ক্ষয় ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১১:০২ এম
লামায় অগ্নিকাণ্ডে মধুঝিরিতে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই ১২ লক্ষ টাকার ক্ষয় ক্ষতি

 মোঃ কবির হোসেন জমাদ্দার:

১৩ই মে ২০২৬ ইংরেজি রোজ বুধবার। বান্দরবানের লামা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মধুঝিরি এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের তিনটি রুম বিশিষ্ট টিনশেড ঘর ও পাকের ঘরসহ সম্পূর্ণ বসতবাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জামাল উদ্দিনের দাবি অনুযায়ী, আগুনে তার প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আজ ১৩ মে বুধবার বিকেলে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার সাথে সাথে স্থানীয় লোকজন লামা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় গাড়ি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুনের তীব্রতায় তিনটি রুম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুনের কারণ, লামা ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, বসতবাড়িটি পুড়ে গেলেও এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে জামাল উদ্দিনের পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।